টিসিবির নিন্মমানের বাধ্যতামূলক পণ্যে ক্ষু'ব্ধ বরিশালের সুবিধাভোগীরা
দুইমাস ধরে চাল ব'ন্ধ, ফেনা হয় না সাবানে, তেলেও ভেজাল,
নিজস্ব প্রতিবেদক*
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো; কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়ার কথা থাকলেও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যের মান নিয়ে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। বরিশালে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকদের চাল, ডাল ও তেলের সাথে গুঁড়া সাবান, বল সাবান ও গায়ে দেওয়ার সাবান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব পণ্যের বেশির ভাগই অত্যন্ত নিন্মমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী।
ফলে একপর্যায়ে এসব পণ্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পরেছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও নগর এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক ডিলার। নগরীর কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা মুক্তা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে দেওয়া ‘সাফ’ গুঁড়া সাবানে ঘ্রাণ ভালো হলেও ফেনা হয় না, কাপড়ও পরিস্কার হয় না। নবগ্রাম রোডের হাসি বেগম বলেন, একই কোম্পানির বল সাবান দিয়ে হাঁড়িপাতিলের কালি ও থালাবাসনের ময়লা পর্যন্ত পরিস্কার হয় না। বরং এটি ব্যবহারে হাতের চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টিসিবির সরবরাহ করা ‘ফ্যামিলি’ পাম অয়েল নিয়েও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের দাবি, বেশিদিন ঘরে রাখলে তেল জমাট বেঁধে যায়। রান্নার পর সবজির ওপর চর্বির মতো আস্তর পরে এবং তেল ভেসে ওঠে। একই অভিযোগ করেছেন, জেলার গৌরনদী উপজেলা ও পৌর এলাকার অধিকাংশ সুবিধাভোগীরা।
সূত্রমতে, প্রায় ছয় মাস আগে টিসিবির পণ্যের তালিকায় জামাকাপড় ধোয়ার গুঁড়া সাবান, গায়ে দেওয়া ও থালাবাসন পরিস্কারের সাবান যুক্ত হয়েছে। নির্ধারিত প্যাকেজে চাল, ডাল, তেল ও চিনির সঙ্গে এসব পণ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধের পর পণ্য নিতে হয় ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকের। গত ১২ জুলাইয়ের এক চিঠিতে টিসিবি জানায়, গ্রাহকদের সাবান বা গুঁড়া সাবান নিতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে পরের মাসে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কয়েকজন ডিলাররা বলেছেন, বাজারে অপরিচিত নিন্মমানের এসব পণ্য যেখানে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকরাই নিতে চান না, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কীভাবে বিক্রি করব আমরা। টিসিবির নিয়ম হচ্ছে তাদের পণ্য বাহিরে বিক্রি করা যাবে না।
তারপরেও তারা এ ধরনের নির্দেশ দেয় কী করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল নগরীর এক ডিলার বলেন, নিন্মমানের এসব পণ্যের সঙ্গে বাজারে প্রচলিত পণ্যের দামে খুব একটা পার্থক্য নেই। যে কারণে বিক্রিতো দূরের কথা কারও কাছে এসব পণ্যের কথা বলাও যাচ্ছেনা। নতুন এ নির্দেশনার পর কোটি কোটি টাকার পণ্য পরে রয়েছে ডিলারদের দোকানে। টিসিবিও এগুলো ফেরত নেবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এসব পণ্যের গায়ে কোনো বিক্রয়মূল্যও লেখা নেই। অপরদিকে প্রায় দুই মাস ধরে গ্রাহকদের চাল দিচ্ছে না টিসিবি। তবে নিয়মিত আসছে পাম অয়েল, ডিটারজেন্ট পাউডার ও বল সাবান। ডিলারদের অভিযোগ, এসব না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মেসেজও দেওয়া হচ্ছে। টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নতুন চালানে হুইল পাউডার এবং চাকা বল সাবান দিচ্ছি
আমরা। চালের বিষয়টি যেহেতু খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখে, তাই এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। বর্তমানে ডিলারদের কাছে থাকা নিন্মমানের পণ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, টিসিবি কখনো নিন্মমানের কোনো পণ্য গ্রাহকদের দেয় না। সঠিক নিয়মে মান যাচাইয়ের পরেই তা আমরা ক্রয় করি। আগের চালানে আসা সাফ ডিটারজেন্ট পাউডার, সাফ বল সাবান কিংবা ফ্যামিলি পাম অয়েল মোটেই নিন্মমানের নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ডিলাররা যদি পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে সেসব পণ্য টিসিবি ফেরত নেবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ফেরত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকদে
অনাগ্রহের কারণে কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে এক মাস পর ডিলাররা তাদের দোকানে রেখে তা বিক্রি করে টাকা উঠিয়ে নিতে পারবেন। রাহাদ সুমন,বরিশাল তারিখ:২০-০৮-২০২৬ইং
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স